ইরান-মার্কিন উত্তেজনায় আতঙ্কে ইসরাইল

ইরান-মার্কিন উত্তেজনায় আতঙ্কে ইসরাইল

ছবি : (বাঁ পাশ থেকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোলা করে তুলেছে মার্কিন প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে এতদিন চুপ থাকলেও কিছুদিন আগে সেই নীরবতা ভেঙেছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আতঙ্কে আছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল। ছয় জাতি চুক্তি থেকে আংশিক সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে ইরানকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত চুক্তিতে থাকা অন্য চার দেশ ভূমিকা না রাখলে ৬০ দিনের মধ্যে ইউরেনিয়ামের উৎপাদন আবার শুরু করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে তারা। পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার প্রথম বার্ষিকীতে বুধবার (৮ মে) দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এ ঘোষণা দেন। দুই দেশের উত্তেজনাকর এ পরিস্থিতিতে বেশ আতঙ্কে আছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ইউভাল স্টেইনিৎজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলআবিবের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী একটি রণতরী ও বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করছে। এর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার করে ইরানের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

স্টেইনিৎজ  বলেন, পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি তেঁতে উঠছে। আমি কোনো কিছুরই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না। ইরান ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরাইলের দিকে মিসাইল ছুঁড়তে পারে।

তিনি বলেন, তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার অচলাবস্থার অবনতি হলে তেহরানের মিত্র হিজবুল্লাহ ও ইসলামী জিহাদ আন্দোলন তাদের রকেট দিয়ে ইসরাইলে হামলা করতে পারে।

প্রসঙ্গত, পরমাণু কর্মসূচি সংকোচনের বিনিময়ে ইরানের ওপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতির ওপর দাঁড়িয়ে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছিল ২০১৫ সালে। ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, চীন এবং রাশিয়া ওই চুক্তির পক্ষে ছিল।  সাবেক বারাক ওবামা প্রশাসনের অন্যতম কৃতিত্ব হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া এই চুক্তির ওপর শুরু থেকেই নাখোশ ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দৃষ্টিতে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের কাছে আত্মসমর্পণের দলিল। প্রেসিডেন্ট হলে এই চুক্তি ছুড়ে ফেলবেন বলে কথা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

কথা রেখেছেনও। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি এই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। একই সঙ্গে আরোপ করেন বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা। বর্তমানে ইরানের দেশ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এত দিন হোয়াইট হাউসের নেওয়া পদক্ষেপের বিপরীতে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে একধরনের সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছিল তেহরান। কিন্তু এখন সেই নীরবতাও ভাঙতে শুরু করেছ ইরান।

0
0

Staff_Reporter1005/Rakib

He is online reporter at DAT (DainikAparadhTothya).

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *