ডাকসু’র ফলাফল গণভবন থেকে নির্ধারিত: দুদু

ডাকসু’র ফলাফল গণভবন থেকে নির্ধারিত: দুদু

ভোট ডাকাতি, জবরদখল ও হামলা-হুমকির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবন থেকে নির্ধারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারমান ও কৃষকদলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

বুধবার ( ১৩ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের উদ্যোগে ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৩তম তম কারাবন্দি দিবস ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল উৎপাদনের ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডাকসুতে কোন নির্বাচন হয়নি মন্তব্য করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন তো হয় নাই। এখানে আবার ভোটের সংখ্যা কি? কে বেশি, কে কম, কার কত ভোট এসব আলোচনা কেন? ভোট তো হয়নি। প্রধানমন্ত্রী যা চে‌য়ে‌ছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (গণভবন) যা চেয়েছে তাই হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা কি আমাদের সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়, এটা কি বায়ান্নোর আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয়, এটা কি ঊনসত্তরের বিশ্ববিদ্যালয়, একাত্তরের বিশ্ববিদ্যালয়, নব্বইয়ের বিশ্ববিদ্যালয়, এটা শেখ হাসিনার আমলের বিশ্ববিদ্যালয়।’

দুদু প্রশ্ন রেখে বলেন,‘ডাকসু নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল সর্বশেষ যত বড় মিছিল করেছে এত বড় মিছিল ছাত্রলীগ করতে পেরেছে কি? ১২ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল যত বড় মিছিল করেছে ১২ বছর ছাত্রলীগ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে না পারতো তাহলে ছাত্রলীগ নামের কোন সংগঠনই থাকত না।’

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘নূরকে আনা হয়েছে এটা নিয়ে এত সম্মান করার কিছু নেই। এটা ছাত্রলীগেরই একটা অংশ। সকালে এক কথা দুপুরে বলে আরেক কথা বিকেলে আবার আরেক কথা বলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমরা ছিলাম যা বলেছি তাই করেছি। ৯০ এর আগে ডাকসু নির্বাচনে কারা জিতেছিল? জিতেছিলো ছাত্রদল। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় ঢুকতে দেয়া হয়নি। যারা সর্বশেষ ডাকসুর পদে ছিল তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় ১২ বছর ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’

ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন,‘ছাত্র সমাজকে উঠে দাঁড়াতে হবে ফ্যাঁসিবাদের বিরুদ্ধে। আমি বলছি না এটা খুব সহজ লড়াই। এ লড়াইটির প্রতিটি পদক্ষেপ হবে হিসাবি, প্রতিটি কৌশল হতে হবে সুচিন্তিত, প্রতিটি লড়াই হবে ভয়হীন, তাহলে আপনারা জয় লাভ করতে পারবেন।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন,‘তারেক রহমানকে যদি দেশে ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে এই সরকারের পরিবর্তন ছাড়া তা সম্ভব নয়। যদি বেগম জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে হয় এই সরকারের পরিবর্তন ছাড়া সম্ভব না। কেউ যদি মনে করেন অনুনয়-বিনয় করে ভারতের কাছে গিয়ে এই সরকারের কাছে গিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন ,এটা সম্ভব নয, লড়াই ছাড়া গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার সম্ভব না।ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে দুদু আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়া যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন শেখ হাসিনা তখন দেশে ফিরে এসেছে। খন্দকার মোশতাক যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন শেখ হাসিনা তখন কিন্তু দেশে ফিরে আসতে পারেনি। তার (শেখ হাসিনা) আজন্মের চাচা ছিলেন খন্দকার মোশতাক। তার আমলে কিন্তু তিনি ফিরে আসেননি।খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রী পরিষদের ৪০ জনের ৩৯ জন ছিলেন আওয়ামী লীগের। শেখ মুজিবের কাছের লোক। তখনো কিন্তু শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন নাই। শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় ফিরে এসেছেন। আর সেই শেখ হাসিনার আমলে তারেক রহমান দেশের বাহিরে, বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের ভাষায় কারাদণ্ডিত হয়ে কারাগারে। এটাই হচ্ছে শেখ পরিবার ও জিয়া পরিবারের পার্থক্য।’

বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী,নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মইনুল ইসলাম,আলিম হোসেন, লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন,আব্দুর রাজি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

0
0

এই বিভাগের আরও কিছু খবর

Staff_Reporter1005/Rakib

He is online reporter at DAT (DainikAparadhTothya).

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *