তালিকা ধরে ধরে নারী সহকর্মীদের ধর্ষণ

তালিকা ধরে ধরে নারী সহকর্মীদের ধর্ষণ

নারী সহকর্মীদের কীভাবে ধর্ষণ করা হবে, কাকে আগে, কাকে পরে- তারই এক বিস্তারিত তালিকা তৈরি করেছিল মার্কিন নৌ-সেনারা। তালিকা ধরে ধরে গত কয়েক মাস যাবত এভাবেই ধর্ষণ করা হচ্ছিলো। সম্প্রতি জর্জিয়ায় মোতায়েন ইউএসএস ফ্লোরিডা নামের এক সাবমেরিন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই তালিকা।

যেখানে দেখা গেছে, পুরুষ সেনারা কবে কোন নারী সেনাকে ধর্ষণ করবে তার তালিকা করা হয়েছে। এমনকি কোন নারী সেনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক কেমন এসব অরুচিকর মন্তব্যও নোট করা রয়েছে।

সাবমেরিনের নেটওয়ার্ক ঘেঁটে লুকিয়ে রাখা ওই ফোল্ডারটি উদ্ধার করার পর চক্ষু চড়কগাছ কমান্ডিং অফিসারদের। গাইডেড-মিসাইল সাবমেরিন ইউএসএস ফ্লোরিডার এমন ঘটনা সামনে আসায় রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এটাকে ‘ধর্ষণ তালিকা’ হিসেবে অভিহিত করেছে সেনা কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে প্রথমেই আছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী (নেভি সিল)। উন্নত প্রযুক্তি, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নৌবাহিনীতে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী সব নাবিক ট্রেনিং নেন।

রবিবার বিশ্বের সেরা সেই ‘স্পেশাল ফোর্স’ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় এ চাঞ্চল্যকর তথ্য। কয়েক মাস আগেই এ তালিকা কর্তৃপক্ষের হাতে এলেও ফ্রিডম অব ইনফরমেশন আইনের জোরে সম্প্রতি এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ইউএসএস ফ্লোরিডার গ্রুপ ১০-এর কমান্ডার জেফ জ্যাবলনের সঙ্গে কথা বলে ৭৪ পাতার ‘রেপ লিস্ট’ প্রকাশ্যে এনেছে মিলিটারি.কম। আগে সাবমেরিনে শুধুমাত্র পুরুষদেরই নিয়োগ করা হতো। তবে ইউএসএস ফ্লোরিডায় গত বছর থেকে মহিলা কর্মী নিয়োগ করা শুরু হয়েছে।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে কর্মকর্তা এবং অন্যদের মিলিয়ে ১৭৩ জনের মধ্যে ৩২ জন মহিলা কর্মী নিয়োগ করা হয়। মিলিটারি.কম সূত্রের খবর, অভিযোগ ওঠে ঠিক তারপরই। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এক নৌ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। তবে সুবিচার তিনি পেয়েছেন কিনা, তা আজও জানা যায়নি।

মিলিটারি.কম-এর দাবি, তারপরেই জুন মাসে ‘ধর্ষণের তালিকা’ তৈরি করেন নৌবাহিনী কর্মী ও কর্মকর্তারা। কম্পিউটারের একটি গোপন ফোল্ডারে রাখা ছিল সেই তালিকা। তাতে একের পর এক মহিলা কর্মীর নাম লেখা রয়েছে৷ তবে উল্লেখ রয়েছে তারা কোন স্তরের পদাধিকারী, তাদের কথাবার্তা বলার ধরন, সাজপোশাক, চেহারার বিস্তারিত বিবরণ এবং পুরুষ কর্মীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা। এই বিভিন্ন বিষয়ে তুল্যমূল্য বিচার করেই নামের পাশে দেয়া ছিল তারকা চিহ্ন। এছাড়াও এক-এক জনের পাশে লেখা ছিল ধর্ষণের পদ্ধতির বিবরণও। অত্যন্ত কুরুচিকর এবং যৌন আবেদনপূর্ণ মন্তব্যও লেখা ছিল ওই তালিকায়।

‘ধর্ষণের তালিকা’ সামনে আসার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন মহিলা কর্মীর। রীতিমতো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। যদিও মিলিটারি.কম-এর এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর তদন্ত শুরু করেছে ন্যাভাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন টিম। ইতোমধ্যে দু’জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাকিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

0
0

Staff_Reporter1005/Rakib

He is online reporter at DAT (DainikAparadhTothya).

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *