নুসরাত হত্যাকাণ্ডে মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদ বাতিল

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদ বাতিল

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করায় আগুনে পুড়িয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) এই কমিটি বাতিল করে মাদরাসাটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

নুসরাত হত্যা এবং অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির বিষয়ে জেনেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার পরিচালনা পর্যদ বাতিল ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিলমাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের ১২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে চারজন অভিভাবক সদস্য, তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন শিক্ষানুরাগী, একজন দাতা সদস্য, অধ্যক্ষকে সদস্যসচিব এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সভাপতি করা হয়।

ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আক্তারুন্নেছা শিউলি পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে থাকায় ঠিক কী কারণে কমিটি বাতিল করা হয়েছে তা তিনি জানেন না।

উল্লেখ্য, মাদরাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তার মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে। এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় সিরাজউদ্দৌলার লোকজন।

কিন্তু নুসরাত অপারগতা প্রকাশ করায় গত ৬ এপ্রিল ফেনীর পৌর শহরের সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রের ছাদে নিয়ে হাত-পা চেপে ধরে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় বোরকা পড়া কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এসময় তার চিৎকারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান।

গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা যান আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। ১১ এপ্রিল বিকেলে লাখো মানুষের জানাজার পর সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জড়িত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এরা হলেন- ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি ও আব্দুর রহিম শরিফ।

গ্রেফতারকৃতদের প্রায় সবাইকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও পিবিআই। এর মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার ‘ঘনিষ্ঠ’ নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম ও আব্দুর রহিম শরিফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে।

0
0

এই বিভাগের আরও কিছু খবর

Staff_Reporter1005/Rakib

He is online reporter at DAT (DainikAparadhTothya).

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *