সিলেটে কালোবাজারিদের হাতে বিপিএলের টিকেট!

সিলেটে কালোবাজারিদের হাতে বিপিএলের টিকেট!

কথা ছিল মঙ্গলবার সকাল দশটা থেকে সিলেটে ইউসিবিএল ব্যাংকের তিনটি শাখায় এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের একটি বুথে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের টিকেট বিক্রি করা হবে। কিন্তু সোমবার রাতে হুট করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকে নয়, টিকেট মিলবে শুধু জেলা স্টেডিয়ামে।

তাই ক্রিকেটপ্রেমীরা সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকেই ভিড় করেন জেলা স্টেডিয়ামে। মঙ্গলবার সকাল হওয়ার আগেই সেই ভিড় হয়ে পড়ে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। এদিকে সকাল থেকে দীর্ঘ ৭-৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট মিলেনি।

সকাল দশটায় বিক্রি শুরুর দু’ঘন্টার মধ্যে ‘নাই’ হয়ে যায় টিকেট! জেলা স্টেডিয়ামের টিকেট বিক্রির বিভিন্ন কাউন্টার থেকে জানানো হয়, টিকেট শেষ হয়ে গেছে। বিশেষ করে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পূর্বপাশের গ্যালারি (টিকেটমূল্য ২শ’ টাকা) ও পশ্চিমপাশের গ্যালারির (টিকেটমূল্য ৩শ’ টাকা) টিকেট ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে বিক্রি শুরুর ঘন্টাখানেকের মধ্যেই জানিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে শুধুমাত্র গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের (টিকেটমূল্য দুই হাজার টাকা) কিছুসংখ্যক টিকেট আছে বলে জানানো হয়। এছাড়া ক্লাব হাউজ (টিকেটমূল্য ৫শ’ টাকা) ও গ্রিন গ্যালারির (টিকেটমূল্য ৪শ’ টাকা) টিকেটও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের ১নং কাউন্টারে টিকেট বিক্রির দায়িত্বে থাকা জাকির হোসেন মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বলেন, ‘পর্যাপ্ত টিকেট রয়েছে। সবাই টিকেট পাবেন।

’ কিন্তু এর মিনিট দশেক পরেই তিনি জানিয়ে দেন, ২শ’ ও ৩শ’ টাকার টিকেট শেষ হয়ে গেছে! এই স্বল্প সময়ে টিকেট কি করে শেষ হয়ে গেল, এর কোনো সদুত্তর তার কাছে ছিল না।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার থেকে টিকেট বিক্রির কথা থাকলেও এর আগেই কয়েক হাজার টিকেট কালোবাজারিদের হাতে চলে যায়। shohoz.com, surjomukhi.com.bd, gadgetbangla.com এই তিনটি ওয়েবসাইটেও মঙ্গলবারের আগেভাগেই টিকেট ছাড়া হয়। সাধারণ মানুষ কিছু জানার আগেই একটি চক্র সেসব টিকেট উচ্চমূল্যে বিক্রির জন্য আগেভাগেই কিনে রাখে।

মঙ্গলবার জেলা স্টেডিয়াম এলাকা ঘুরে টিকেট কালোবাজারিদের হাতে যাওয়ার সত্যতা মিলে। বেশ কয়েকজন যুবককে ২শ’ টাকার টিকেট ১২শ’ টাকায়, ৩শ’ টাকার টিকেট ১৫শ’ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে এসব যুবকদের কেউই নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। এমনকি তারা কি করে টিকেট পেলেন, এ প্রশ্নের উত্তরও এড়িয়ে যান।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইউসিবিএল ব্যাংকের সাথে টিকেট বিক্রির চুক্তি করেছিল বিসিবি। কিন্তু ব্যাংকে মাত্র ৫শ’ টিকেট বিক্রির জন্য দিতে চেয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা। এতো স্বল্প পরিমাণ টিকেট নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা যাবে না, এজন্য ব্যাংক টিকেট নেয়নি।

ইউসিবিএল ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘‘ব্যাংকের মাধ্যমে টিকেট বিক্রি করা হলে কালোবাজারিদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। আমাদের মাত্র পাঁচ শ’ টিকেট দিতে চাইলে আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এই টিকেট দিয়ে মানুষের প্রত্যাশা কিছুতেই পূরণ করা সম্ভব নয়। ’’

এদিকে, কালোবাজারি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও উচ্চমূল্যে টিকেট বিক্রি করছে। ‘ঘাস ফড়িং’ নামক একটি আইডি থেকে ‘সিলেটের বেচা-কেনা (শুধুমাত্র সিলেট শহর)’ একটি গ্রুপে টিকেট বিক্রির ঘোষণা দিয়ে পোস্ট দেয়া হয়েছে। ওই পোস্টে অশুদ্ধ বাংলায় লিখা হয়েছে, ‘বিপিএল এর ৪ তারিখ খেলার টিকেট আছে…..দাম ১২০০ টাকা, ফার পিস করে…একদাম যদি কেও নিতে ছান তাহলে কল দেন….০১৭১৫৩১****’।

ওই মোবাইল নম্বরে কল দেয়া হলে এক যুবক রিসিভ করে নিজেকে নগরীর শামীমাবাদের আরিয়ান পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘টিকেট আছে। ৩-৪টা দেয়া যাবে। ১২০০ টাকার কম হবে না। ’ টিকেটগুলো স্টেডিয়ামের পূর্বপাশের গ্যালারির বলেও জানান তিনি।

সামগ্রিক বিষয়ে কথা বলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *